জেনে নিন মঙ্গল গ্রহ সম্পর্ক সকল অজানা তথ্য। পর্ব – (২)

iLoveYouBD.Com

iLoveYouBD.Com
মঙ্গল গ্রহটির অভ্যন্তরীন গঠন
অনুসন্ধানে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে এটি অন্তত নিশ্চিত হওয়া গেছে
যে, এর কেন্দ্রীয় অংশটির
(core) ব্যাসার্ধ্য প্রায় ১,৪৮০
কিলোমিটার (৯২০ মাইল)।
এই কেন্দ্রভাগ মূলত লৌহ
দ্বারা গঠিত, অবশ্য লোহার
সাথে ১৫ থেকে ১৭%
সালফার রয়েছে বলে জানা
যায়। এ হিসেবে মঙ্গলের কেন্দ্রভাগ
আয়রন সালফাইড দ্বারা গঠিত যা
অনেকাংশে তরল। এই
পদার্থগুলোর ঘনত্ব পৃথিবীর
কেন্দ্রে অবস্থিত পদার্থের
তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
কেন্দ্রের চারদিক ঘিরে
সিলিকেট দ্বারা গঠিত
একটি ম্যান্টল রয়েছে যা
গ্রহটির অনেকগুলো
শিলাসরণ এবং আগ্নেয়
প্রকৃতির কাঠামো তৈরীতে
মূল ভূমিকা পালন করেছে।
কিন্তু বর্তমানে ম্যান্টলটি
নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।
মঙ্গলের ভূ-ত্বকের গড় পুরুত্ব
৫০ কিলোমিটার (৩১ মাইল)।
তবে এই পুরুত্ব সর্বোচ্চ ১২৫
কিলোমিটার (৭৮ মাইল)
পর্যন্ত হতে দেখা যায়।
অন্যদিকে পৃথিবীর ভূ-ত্বকের
পুরুত্ব গড়ে ৪০ কিমি (২৫
মাইল)। পৃথিবী এবং মঙ্গল এই
গ্রহ দুটির আকৃতির অনুপাত
বিবেচনায় আনলে পৃথিবীর
ভূ-ত্বক মঙ্গলের ভূ-ত্বক থেকে
মাত্র তিনগুণ পুরু। মঙ্গলের ভূ-তাত্ত্বিক
ইতিহাসকে অনেকগুলো
ইপকে বিভক্ত করা যেতে
পারে। তবে নিম্নে উল্লেখিত তিনটি ইপকই
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সুস্পষ্ট:

নোয়াচিয়ান ইপক:
(নোয়াচিস টেরার নামে
নামাঙ্কিত), ইংরেজিতে
Noachian epoch. ৩.৮ বিলিয়ন
বছর থেকে ৩.৫ বিলিয়ন বছর
পূর্বের সময়কালটি নোয়াচিয়ান ইপক নামে
পরিচিত। এই সময় মঙ্গলের
পৃষ্ঠতল গঠিত হয় যা এখনও
বিদ্যমান রয়েছে। সেই যুগে সৃষ্ট পৃষ্ঠতলে
পরবর্তীতে প্রচুর বিশালায়তন খাদের সৃষ্টি
হয়েছে। থারসিস বাল্জ নামক একটি আগ্নেয় উচ্চভূমি এই সময় সৃ।টি
হয়েছিল বলে ধারণা করা
হয়েছে। এই ইপকের শেষের
দিকে তরল পানির বন্যা হয়েছিল বলেও বদ্ধমূল ধারণার সৃষ্টি হয়েছে।

হেসপারিয়ান ইপক:
(Hesperia Planum-এর নামে
নামাঙ্কিত), ইংরেজিতে
Hesperian epoch. ৩.৫ বিলিয়ন
বছর থেকে ১.৮ বিলিয়ন
বছর পূর্ব পর্যন্ত এই ইপকের
সীমানা। এই যুগে
বিশালায়তন লাভা
দ্বারা আচ্ছাদিত সমভূমির
সৃষ্টি হয়।

অ্যামাজোনিয়ান ইপক:
(অ্যামাজোনিস প্ল্যানিটিয়া থেকে এসেছে), ইংরেজিতে Amazonian
epoch. ১.৮ বিলিয়ন বছর পূর্ব
থেকে বর্তমান পর্যন্ত এই
ইপকের সীমারেখা। এই যুগে স্বল্প সংখ্যক
বিশালায়তন খাদের সৃষ্টি
হয়েছে যার কারণ ছিল
উল্কাপাত। কিন্তু এ সময়
বিভিন্ন ধরণের অনেক
কাঠামো তৈরি হয়েছে।
এই সময়ই সৌর জগতের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ
অলিম্পাস মন্স সৃষ্টি
হয়েছে। এছাড়া এ সময়েই
মঙ্গলের অন্যান্য স্থানে
লাভার প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে।
iLoveYouBD.Com
জলবিজ্ঞান :
আণুবীক্ষণিক শিলা চিত্র যা পানির
অস্তিত্বের সম্ভাবনা জানায়।
অপরচুনিটি রোভার থেকে
তোলা বর্তমানে মঙ্গলের
বায়ুমণ্ডলীয় চাপ এতোটা কম
যে এতে তরল পানি থাকা
সম্ভব নয়। কিন্তু মঙ্গলে বরফ
রয়েছে। এর দুই মেরু সম্পূর্ণ
বরফ দ্বারা গঠিত। ২০০৭ সালের মার্চে নাসা এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে
জানিয়েছে, মঙ্গলের দক্ষিণ
মেরুতে যে পরিমাণ বরফ
রয়েছে তা গলিয়ে দিলে
সমগ্র গ্রহটি পানিতে ডুবে
যাবে এবং এই জলভাগের
গভীরতা হবে প্রায় ১১ মিটার (৩৬ ফুট)। উপরন্তু বরফের একটি পারমাফ্রস্ট
ম্যান্ট্ল মেরু অঞ্চল থেকে
৬০° অক্ষাংশ এলাকা জুড়ে
প্রলম্বিত রয়েছে। মঙ্গলের
পুরু ক্রায়োস্ফেয়ারের
অভ্যন্তরে আরও বিপুল
পরিমাণ পানি লুকিয়ে
রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
কোন আগ্নেয় বিস্ফোরণের
মাধ্যমে ক্রায়োস্ফেয়ার
ধ্বংস হলেই কেবল এই পানি
বেরিয়ে আসতে পারে।
এরকম একটি বিস্ফোরণ অনেক
আগে হয়েছিল যার কারণে মঙ্গলের
ভ্যালিস মেরিনারিস গঠিত হয়।
ইতিহাসের এই সময়ে বিপুল
পরিমাণ পানি বেরিয়েছিল
যা একটি সুবৃহৎ নদী উপত্যকা
গঠনের জন্য যথেষ্ট ছিল। আজ
থেকে ৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে
এরকম আরেকটি ঘটনা
ঘটেছিল যার কারণে
সারবেরাস ফোসি নামক
একটি খাদ উন্মুক্ত হয়েছিল।
এর ফলে একটি বরফের সাগর
সৃষ্টি হয়ে যা এখনও দেখা
যায়। এই সাগরটিকে
বর্তমানে এলিসিয়াম প্ল্যানিটিয়া বলা হয়।
অতি সম্প্রতি মার্স গ্লোবাল
সার্ভেয়ারে অবস্থিত মার্স
অরবিটার ক্যামেরার
মাধ্যমে মঙ্গলের কিছু উচ্চ
রিজল্যুশন ছবি তোলা
হয়েছে। এর ফলে মঙ্গলের
পৃষ্ঠতলে তরল পানির
অস্তিত্বের ইতিহাস সম্বন্ধে অনেকটাই
বিস্তারিত জানা গেছে।
সেখানে বন্যা সৃষ্টকারী
বিশালায়তন কিছু
চ্যানেলের নিদর্শন পাওয়া
গেছে এবং এর সাথে
সংশ্লিষ্ট প্রচুর শাখা নদী
সদৃশ প্রবাহের অস্তিত্বও
প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু
এমন কোন ছোট আকৃতির গঠন
পাওয়া যায়নি যাকে বন্যা
সৃষ্টিকারী এই জলস্রোতের
উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা
যেতে পারে। বর্তমানে
অবশ্য এদের কোনটিই জীবিত
নেই। আছে শুধু এদের নিদর্শন।
আবহাওয়ার পরিবর্তনই এদের
বিলুপ্তির কারণ বলে মনে
করা হয়। এ থেকেই বোঝা
যায়, এই গঠনগুলো কত পুরনো
ছিল। আবার আগ্নেয়গিরির
জ্বালামুখ এবং গভীর গিরিখাতের পার্শ্ববর্তী
অঞ্চল জুড়ে বেশ কিছু গঠন
বিভিন্ন চিত্রে ধরা পড়েছে যেগুলো অনেকটা
পৃথিবীর সমুদ্র সন্নিবিষ্ট
নিষ্কাশন নালী আকৃতির
গিরিখাতের মত। এই
গিরিখাতগুলো মঙ্গলের
দক্ষিণ গোলার্ধের উঁচু
অঞ্চলগুলোতে অবস্থিত।
এদের মুখ বিষুবরেখার দিকে
এবং সবগুলো ৩০° অক্ষাংশে মেরুমুখী হয়ে আছে। গবেষকরা এমন কোন
গিরিখাত খুঁজে পাননি
যেগুলো আংশিক বা
সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
এমনকি পরষ্পর উপরিপাতিত
কোন ইমপ্যাক্ট জ্বালামুখও
খুঁজে পাননি। এ থেকে
বোঝা যায় যে এই গঠনগুলো
বেশ নবীন।
এই ছবিটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ
উদাহরণ রয়েছে। এখানে
মোট দুইটি চিত্র রয়েছে যার
একটি অপরটি থেকে ৬ বছর
পরে তোলা। ছবিটি মূলত
মঙ্গলের একটি উপত্যকার
যাক দেখে অনেকটা নবীন
পলির আস্তরণ মনে হচ্ছে।
নাসার মঙ্গল অভিযান
প্রকল্পের প্রধান বিজ্ঞানী
মাইকেল মেয়ার দ্বিমত
পোষণ করে বলেছেন, বিপুল
পরিমাণ জলমিশ্রিত কোন
ধরণের পদার্থের প্রবাহের
মাধ্যমেই কেবল এ ধরণের
রঙীন এবং ধ্বংসাবশেষ
আকৃতির গঠনের সৃষ্টি হতে
পারে। এই জল কি বায়ুমণ্ডল
থেকে বর্ষিত তুষারপাত বা
বৃষ্টি থেকে এসেছে নাকি
ভূগর্ভস্থ কোন উৎস থেকে
এসেছে তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। অবশ্য এই
ধ্বংসাবশেষের অস্তিত্ব
ব্যাখ্যা করার জন্য বিকল্প
প্রকল্পও গৃহীত হয়েছে। এমন
হতে পারে বরফ কঠিন কার্বন
ডাই অক্সাইড অথবা মঙ্গলীয়
পৃষ্ঠে ধূলির প্রবাহের
মাধ্যমে এই পলিবিশিষ্ট
তলানীর সৃষ্টি হয়েছে।
এতদ্ব্যাতীত মঙ্গলে এমন
কিছু খনিজ পদার্থ পাওয়া
গেছে যা থেকে বোঝা যায়
মঙ্গলে এক সময় তরল পানির
অস্তিত্ব ছিল। এই
পদার্থগুলোর মধ্যে রয়েছে
হেমাটাইট এবং goethite,
যারা সাধারণত পানির
উপস্থিতিতে গঠিত হয়।
iLoveYouBD.Com

24 Views

মন্তব্য করুন