জেনে নিন মঙ্গল গ্রহ সম্পর্কিত অজানা সকল তথ্য। পর্ব – (৪) “আজকে আমরা জানবো মঙ্গল গ্রহে অভিযান সম্পর্কে”।

iLoveYouBD.Com

অভিযান ::
iLoveYouBD.Com
ভাইকিং ল্যান্ডার ১ এর অবতরণের
স্থান – মঙ্গল অভিযান
সোভিয়েত ইউনিয়ন,
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র , ইউরোপ,
এবং জাপানের পক্ষ থেকে
মঙ্গল অভিমুখে ডজন খানেক
নভোযান পাঠানো হয়েছে
যার মধ্যে অরবিটার,
ল্যান্ডার এবং রোভার সবই
ছিল। আর অভিযানগুলোর
উদ্দেশ্য ছিল মঙ্গলের ভূত্বক,
জলবায়ু এবং ভূতত্ত্ব নিয়ে
গবেষণা করা।
দুঃখজনক হলেও সত্যি, মঙ্গলে
পাঠানো নভোযানগুলোর
মধ্যে অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ
তাদের উদ্দেশ্য সিদ্ধির
আগে ব্যর্থ হয়ে গেছে।
অনেকগুলো অভিযান
ঠিকমতো শুরু করার আগেই
স্তব্ধ হয়ে গেছে। মূলত
কৌশলগত সমস্যার কারণেই
এই ব্যর্থতাগুলোর উৎপত্তি।
অধিকাংশের সাথে মাঝপথে যোগাযোগ নষ্ট হয়ে গেছে। যোগাযোগ
নষ্টের কারণ জানা যায়নি,
অনেকগুলোর কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা এখনও চলছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
হওয়ার কয়েকটি জনপ্রিয়
উদাহরণের মধ্যে রয়েছে:
পৃথিবী-মঙ্গল বারমুডা
ট্রায়াংগ্ল, মঙ্গল অভিশাপ,
বহুল পরিচিত নাসা ইন-জোক
এবং “গ্রেট গ্যালাক্সি
ইটার” যা মঙ্গলগামী
নভোযান খেয়ে বেচে থাকে।

বিগত অভিযানসমূহ ::
মঙ্গলের প্রথম ফ্লাই-বাই
করতে সমর্থ হয় নাসার
মেরিনার ৪। ১৯৬৪ সালে এই
নভোযান উৎক্ষেপণ করা
হয়েছিল। প্রথম মঙ্গলের ভূ-
পৃষ্ঠে অবতরণ করে দুটি
সোভিয়েত সন্ধানী যান,
মার্স ২ এবং মার্স ৩। ১৯৭১
সালে উৎক্ষেপিত এই দুটি
যানই সোভিয়েত মার্স
প্রোব প্রোগ্রাম এর অংশ
ছিল। দুঃখের বিষয় হল,
অবতরণের মাত্র কয়েক
সেকেন্ডের মাথায় দুটি
নভোযানের সাথেই পৃথিবীর
মিশন কন্ট্রোলের
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে
যায়। এরপর ১৯৭৬ সালে শুরু হয়
নাসার বিখ্যাত ভাইকিং
প্রোগ্রাম। এই প্রোগ্রামে
দুটি অরবিটার এবং প্রতিটি
অরবিটারের সাথে একটি
করে ল্যান্ডার ছিল। দুটি
ল্যান্ডারই ১৯৭৬ সালে
মঙ্গলের ভূমিতে অবতরণ
করে। ভাইকিং ১ ৬ বছর এবং
ভাইকিং ২ ৩ বছর কর্মক্ষম
ছিল এবং তাদের সাথে এই
সময়ে পৃথিবীর যোগাযোগও
ছিল। ভাইকিং ল্যান্ডারগুলোই প্রথম
মঙ্গলের রঙিন ছবি রিলে
করে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিল। এগুলো
মঙ্গলপৃষ্ঠের এতো সুন্দর
মানচিত্র প্রস্তুত করেছিল
যে এখনও তার কোন কোনটি
ব্যবহৃত হয়। সোভিয়েত
সন্ধানী যান ফোবোস ১
এবং ফোবোস ২ ১৯৮৮ সালে
মঙ্গল এবং তার দুটি উপগ্রহ –
ফোবোস ও ডিমোস
পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে
যাত্রা করে। দুঃখজনকভাবে
ফোবোস ১ এর সাথে
যাত্রাপথেই যোগাযোগ
বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফোবোস ২ মঙ্গল এবং
ফোবোসের ছবি তোলার পর
ফোবোসে অবতরণের
উদ্দেশ্যে দুটি ল্যান্ডার
নামাতে যাওয়ার ঠিক
আগে অকেজো হয়ে পড়ে।
অর্থাৎ এর সাথেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে
যায়। ১৯৯২ সালে মার্স
অবজারভার অরবিটার ব্যর্থ
হওয়ার পর নাসা ১৯৯৬ সালে
মার্স গ্লোবাল সারভেয়ার
প্রেরণ করে। শেষের
অভিযানটি ব্যাপক সফলতা
অর্জন করে। ২০০১ সালে এর
প্রাথমিক মঙ্গল মানচিত্রায়ন কাজ সম্পন্ন
হয়। ২০০৬ সালের নভেম্বরে
তৃতীয় বিস্তৃত প্রোগ্রামের
সময় এর সাথে যোগাযোগ
বিচ্ছিন্ন হয়। মহাকাশে
প্রায় ১০ বছর কর্মক্ষম ছিল এই
সারভেয়ার। সারভেয়ার
প্রেরণের মাত্র এক মাস পরই
নাসা মঙ্গলের উদ্দেশ্যে
মার্স পাথফাইন্ডার পাঠায়
যার মধ্যে সোজার্নার
নামক একটি রোবোটিক যান
ছিল। সোজার্নার মঙ্গলের
এরিস উপত্যকায় অবতরণ করে।
এই অভিযান ছিল নাসার
আরেকটি বড় ধরণের সাফল্য।
এই অভিযানটি ব্যাপক
জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
মঙ্গলের চমৎকার সব ছবি
পাঠানোর জন্য জনমনে এ
নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা
দিয়েছিল।

বর্তমান অভিযানসমূহ ::
iLoveYouBD.Com
মঙ্গলপৃষ্ঠে স্পিরিট রোভারের ল্যান্ডার
২০০১ সালে নাসা সফলভাবে
মার্স অডিসি অরবিটার
উৎক্ষেপণ করে। ২০০৮
সালের মার্চের তথ্য অনুসারে এটি এখনও মঙ্গলের কক্ষপথে আবর্তনরত আছে।
২০০৮ এর সেপ্টেম্বরে এর
কাজ শেষ হবে বলে আশা
করা হচ্ছে। অডিসির গামা
রশ্মি বর্ণালিবীক্ষণ যন্ত্র
মঙ্গলের রেগোলিথের উপরের এক মিটার স্থানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ
হাইড্রোজেন সনাক্ত করেছে। ধারণা করা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ পানি বরফের
তলানি হিসেবে এই হাইড্রোজেন সঞ্চিত
হয়েছে। ২০০৩ সালে এসা মার্স
এক্সপ্রেস ক্র্যাফ্ট উৎক্ষেপণ
করে যার মধ্যে ছিল
মার্স এক্সপ্রেস অরবিটার এবং
বিগ্ল ২ নামক ল্যান্ডার।
অবতরণের সময় বিগ্ল ২
অকেজো হয়ে যায় এবং ২০০৪
সালের ফেব্রুয়ারিতে এটি
হারিয়ে গেছে বলে ঘোষণা
দেয়া হয়। ২০০৪ সালের প্রথম
দিকে প্ল্যানেটারি ফুরিয়ার বর্ণালিবীক্ষণ
যন্ত্র ব্যবস্থাপক দল ঘোষণা দেয়
যে তারা মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে
মিথেন সনাক্ত করেছে। ২০০৬ সালের জুন
মাসে এসা মঙ্গলে মেরুজ্যোতি আবিষ্কারের
ঘোষণা দেয়। ২০০৩ সালের এপ্রিলে নাসা
যমজ মঙ্গল অভিযান রোভার
উৎক্ষেপণ করে। রোভারদ্বয়ের নাম
স্পিরিট (এমইআর-এ) এবং অপরচুনিটি
(এমইআর-বি)। ২০০৪ এর
জানুয়ারিতে দুটি রোভারই
মঙ্গলপৃষ্ঠে অবতরণ করে এবং
তাদের জন্য বরাদ্দকৃত
সবগুলো কাজ সুন্দরভাবে
সম্পাদন করে। প্রকৃতপক্ষে
তারা আশাতীত সফলতা
লাভ করেছিল। এই
অভিযানে একটি অতি
গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সত্য
উদ্ঘাটিত হয়। রোভার দুটির
অবতরণের দুটি স্থানেই কোন
এক সময় তরল পানির অস্তিত্ব
ছিল বলে জানা গেছে।
মঙ্গলের ডাস্ট ডেভিল এবং
ঝড়ো হাওয়া সময় সময় এই
রোভার দুটির সৌর প্যানেল
পরিষ্কার করে দিয়ে যায়। এ
কারণে এদের আয়ু বৃদ্ধি
পাচ্ছে। ২০০৫ সালের ১২ই আগস্ট নাসা
এই গ্রহের উদ্দেশ্যে মার্স
রিকনিসন্স অরবিটার নামক
একটি সন্ধানী যান উৎক্ষেপণ করে। ২০০৬ সালের ১০ই মার্চ এটি মঙ্গলে
পৌঁছে। এর উদ্দেশ্য দুই বছর
ব্যাপী বৈজ্ঞানিক জরিপ
পরিচালনা করা। অরবিটারের মূল কাজ
মঙ্গলের বিস্তৃত ভূখণ্ড
পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী
অভিযানগুলোর অবতরণের
জন্য উপযোগী স্থান
নির্বাচন করা। এর বিশেষ
বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পৃথিবীর
সাথে অতি উন্নত মানের
টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা।
অভিযানের যোগাযোগে
ব্যবহৃত সংকেতের
ব্যান্ডপ্রস্থ আগের সবগুলো
অভিযানের সমন্বিত
ব্যান্ডপ্রস্থ থেকেও বেশী।
২০০৮ সালের ৩রা মার্চ
বিজ্ঞানীরা বলেছেন,
মার্স রিকনিসন্স অরবিটার
গ্রহটির উত্তর মেরুর
কাছাকাছি অঞ্চলে একটি
সক্রিয় ধারাবাহিক
হিমপ্রপাত এর ছবি তুলেছে।
এ ধরণের ছবি এই প্রথম তোলা
হল।
iLoveYouBD.Com

32 Views

One thought on “জেনে নিন মঙ্গল গ্রহ সম্পর্কিত অজানা সকল তথ্য। পর্ব – (৪) “আজকে আমরা জানবো মঙ্গল গ্রহে অভিযান সম্পর্কে”।

মন্তব্য করুন