হযরত আয়েশা (রা:) এর অসাধারণ একটি ঘটনা!পর্ব;1

Islamic Stories

হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে
বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি
রসুলুল্লাহ (সঃ) এর স্ত্রীদের
মধ্যে হযরত খাদিজা (রাঃ)
ছাড়া আর কাউকে ঈর্ষা
করি নি।যদিও আমি তাঁকে
পাই নি। রাসুলুল্লাহ (সাঃ)
যখন বকরী জবেহ করতেন,
বলতেন, এই মাংস খাদিজার
বান্ধবীদের পাঠিয়ে দাও।
একদিন আমি তাতে
রাগান্বিত করলাম এবং
বললাম, খাদিজাকে এতোই
ভালবাসেন? আল্লাহর রাসূল
(সাঃ) তখন বললেন, তাঁর
( খাদিজা) ভালবাসা আমার
অন্তরে গেঁথে দেওয়া
হয়েছে।”
– মুসলিম শরীফ (২৪৩৫)।
#হযরত খাদিজা
রাদিয়াল্লা-হু তায়ালা
আনহার এর ভালবাসা
নবীজি সলল্লাল-হু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম এর অন্তরে
গেঁথে দেওয়া হয়েছে ।
এইটি আমার খুব পছন্দরের
একটি হাদীস। অাসলে,
খাদিজা (রাঃ)র প্রতি
নবীজি (সঃ) এর অাবেগীয়
অনুভুতি সম্পর্কিত যতো
হাদীস বা ঘটনা আছে
সবগুলোই আমার ভীষণ প্রিয়।
পড়ার সময় কেমন যেন একটা
শিহরণ বয়ে যায় ভেতরে।
#আজকাল আমাদের সমাজে
কতো নিয়ম বিয়ের জন্য।
ছেলে বয়সে বড় হতে হবে,
মেয়ের বয়স কম হতে হবে
( অন্যথায় মেয়ের চেহারা
খারাপ হয়ে গেছে consider
করা হবে যেন বিয়াই
একমাত্র বিউটি বর্ধক।)
#আবার ছেলের টাকাকড়ি
মেয়ের ফ্যামিলির চেয়ে
বেশি হতে হবে- এমন কতো
কি! একটু গরীব ছেলের সাথে
বিয়ে হলে সে মেয়েকে
বাপের বাড়িও লজ্জিত হতে
হয়!
অথচ পৃথীবির শ্রেষ্ঠ
মানুষটিকে দেখুন। নিজের
চেয়ে ১৫ বছরের বড় স্ত্রীর
জন্য তার ভালবাসা দেখুন।
নবীজি (সঃ) বলেছেন, ” যদি
খাদিজা বেঁচে থাকতো,
আমি কখনোও দ্বিতীয়
বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতাম
না (আল হাদিস)। তেমনি
খাদিজা (রাঃ) ও নিজে
আরবের অন্যতম শ্রষ্ঠ ধনী
রমণী হওয়া সত্বেও নিজে
নবীজি (সঃ) এর জন্য পাহাড়
বেয়ে খাবার নিয়ে হেরা
গুহায় চলে যেতেন। নবুওতির
কঠিন সময়ে আমৃত্যু পাশে
ছিলেন। বড় ডিগ্রী, টাকা,
বয়সে ভালবাসা মেলে না।
ভালবাসা হল অবস্থা
নির্বিশেষে সঙ্গীকে
সম্মান করা, দূরে থেকেও
আস্থা রাখা, দুঃসময়ে পাশে
থাকা।
#কি অপূর্ব খোশ নসিব !
ইসলাম গ্রহন করার পরেই
স্বয়ং আল্লাহতায়ালা
তাকে সালাম দেন! রাসুল
(সঃ) যার ইন্তেকালে
সবচেয়ে বেশি
কেঁদেছেন,যার ইন্তেকালের
বছরটি ছিলো রাসুল (সঃ) এর
সবচেয়ে দুঃখ কষ্টের বছর।
রাসুল (সঃ) বলেছেন
“আসমানের নিচে জমিনের
উপরে তারচেয়ে উত্তম
মহিলা আর নাই” হ্যা তিনি
আর কেউ নন তিনি হলেন
রাসুল (সঃ) এর প্রথম স্ত্রী
খাদিজা (রাঃ)। যিনি তাঁর
সমস্থ সম্পদ ইসলামের
কল্যানে আল্লাহর রাসুল (সঃ)
কে বিলিয়ে দিয়েছেন।
#শুধু তাই নয় নবুয়তের সময়কার
কঠিন যন্ত্রনাময় দিনগুলিতে
রাসুল(সঃ) কে শান্তনা দেন,
আগলে রাখেন পরম মমতায়।
হযরত আয়েশা রাঃ বলেন
আমি একবার রাসূল সঃ কে
নিয়ে রাতে শুয়েছিলাম
অর্ধেক রাতে দেখলাম
তিনি আমার পাশে নেই
দেখলাম তিনি নামাযের
বিছানায় বসে দোয়া
করছেন আমি অযু করে দোয়ায়
শামিল হলাম।রাসুল (সাঃ)
মুনাজাতে বলছেন হে
আল্লাহ কিয়ামতের সেই
কঠিন দিনে যখন স্বামী
তাঁর স্ত্রীকে ভুলে যায় সেই
কঠিন দিনে আমি যেন
আমার খাদিজাকে ভুলে না
যাই,আমি রাসুলের মুখে
খাদিজার কথা শুনে হাত
নামিয়ে ফেল্লাম। বল্লাম
হে আল্লাহর রাসুল ৪০ বছরের
এক বৃদ্ধা যাকে আপনি ২৫ বছর
বয়সে পেয়েছেন এর চেয়ে
শ্রেষ্ঠ মহিলা কি আপনার
জীবনে আসে নাই ? এই কথা
শুনে রাসুল সঃ এর চেহারা
মুবারক লাল হয়ে গিয়েছে
তিনি বলেন আয়েশারে তুমি
আমার খাদিজার ব্যাপারে
আর কক্ষনো এরুপ মন্তব্য
করোনা। এই মক্কার জমিনে
আমি মুহাম্মদের যখন কেউ
খবর নেয়ার ছিলোনা তখন
সমস্থ সম্পদ খাদিজা আমাকে
বিলি করে দিয়েছেন। আমি
যত রাতেই বাড়ি ফিরতাম
এই খাদিজা দরজার পাশে
দাঁড়িয়ে থাকতো,একবার
এসে নক করার সাথে সাথে
দরজাটা খুলে দিতো।আমি
বলতাম খাদিজা ঘুমাও নাই
কেন? খাদিজাতুল কুবরা
বলতো আপনার আসতে দেরী
হলে খুলতে যদি দেরী হয়
আপনার সাথে বেয়াদবি
হবে তাই এই দরজায় আমি
পিঠ লাগিয়ে ঘুমাই।
#এই জীবনে খাদিজা কখনো
আমাকে ছাড়া খায় নাই।
আমি যখন হেরা গুহায় ধ্যান
করতাম এই খাদিজা খাবার
নিয়ে হেরা গুহায় উঠে
যেত।বসে থাকতো আমাকে
ডাকতো না।আমি উঠে
দেখতাম খাদিজা ক্লান্ত
শ্রান্ত হয়ে বসে আছে,আমি
বলতাম খাদিজা আমাকে
ডাকেন নাই কেন? খাদিজা
উত্তর দিতেন আপনি আল্লাহ
কে পাওয়ার জন্য ধ্যান
করছেন বেয়াদবি হয়ে যাবে
সেই জন্য আমি ডাকি নাই।এ
জন্যি আল্লাহ তায়ালা
খাদিজাকে এতো মর্যাদা
দিয়েছেন যে বিশ্ব নবির
সাথে কালিমা পড়ার সাথে
সাথে আল্লাহ তায়ালা
নিজে খাদিজাকে সালাম
দিয়েছেন।
# নারীরা যদি খাদিজা
রাঃ এর আদর্শ গ্রহন করতো
তাহলে এই পৃথিবীটা কতো
সুন্দর হতো। রাসুল (সাঃ) এর
মুখে এই কথা শুনে আয়েশা
(রাঃ) বলেন আমার ভুল হয়ে
গেছে হে আল্লাহর রাসুল।
আমি আর কখনো খাদিজা
(রাঃ) ব্যাপারে এই কথা
বলবো না!

2 thoughts on “হযরত আয়েশা (রা:) এর অসাধারণ একটি ঘটনা!পর্ব;1

  1. লাইন সম্পূর্ণ করে লিখেন। এভাবে অর্ধেক লাইন লিখে এরপর পোষ্ট করবেন না।

Leave a Reply