মিশরের রহস্য

Uncategorized

মিশর(Egypt)!!!

নামটা শুনলেই বুঝা যায় জায়গাটা রহস্যময়।
রহস্যময়তার জন্য মিশর(Egypt) বিখ্যাত।
মিশরের সবচেয়ে আশ্চর্জ এবং রহস্যময় সভ্যতা হলো পিরামিড।
যত রহস্য সব এই পিরামিডকে নিয়েই!
এককথায় বলা যায় পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় এবং আশ্চর্যময় স্থাপত্যের নাম মিশরের পিরামিড।রূপকথার পুস্তিপথবাক্যে নানারঙে সাজিয়ে ও মিশিয়ে কবি-লেখকরা তাকে নিয়ে রচনা করেছেন বহু কাব্য ইতিহাস।
অন্যদিকে প্রচুর শক্তিসম্পন্য চশমা লেন্স চোঁখে এঁটে তাবত বিশ্বের বিজ্ঞানীরা খুজে দেখতে চেষ্টা করেছেন পিরামিডের অন্তর্দিক।আর নিরপেক্ষ দর্শকগণ মন্ত্রমুগ্ধের মতো যুগ যুগ ধরে উপভোগ করে আসছেন পিরামিডের সৌন্দর্য।বহু বিজ্ঞানী হাজার চেষ্টা করেও জানতে পােরনি এই রহস্যের শুরু এবং শেষ কোথায়।
কিশর সম্পর্কে সংক্ষেপে বলার মতো কিছুই নেই,ইহা এক বিশাল রহস্য হ্রদ।
মিশরের আরেকটি নিদর্শন হলো নীলনদ যার কথা প্রায় সবাই জানে।

তো চলুন জানা যাক মিশরের রহস্য….

মিশরের সবচেয়ে বড় পিরামিডের উচ্চতা ৪৮০ ফুট ও প্রস্থ ৭৫৬ ফুট। কিভাবে এতো বড় বেলে পাথর উত্তোলন করে ঐ বিশাল আয়তনের পিরামিড তৈরী করা হয়েছিলো তা আজও আমাদের কাছে রহস্য।
তবে ধারণা করা যায় যে,সেই আমলের রাজাদের যুদ্ধবন্দিদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এগুলো তৈরী করা হতো।
প্রাচীণকালে ফেরাউ বলা হতো মিশরের রাজাদের যা ছিলো রাজাদের উপাধি। প্রজাগণ ফেরাউদের দেবতা হিসেবে পূজা করতো।
সেসময় সকল রাজাদের একপ্রকার বৈশিষ্ঠ ছিলো,তারা ক্ষমতায় গেলেই তাদের মধ্যে নানান ধরণের বিচিত্র চিন্তা তৈরী হতো। প্রায় সকল রাজাদেরই একই ইচ্ছা ছিলো যে মরার পর তাদের দেহ অবিনষ্ট থাকবে। আর এজন্যই তারা এক বিচিত্র পদ্ধতি আবিষ্কার করে। যার মাধ্যমে মৃত ব্যক্তিকে অনেকদিন পর্যন্ত অবিনষ্ট,অবিকৃতি অবস্থায় রাখা যায়।এই অবিকৃত অবস্থায় রাখাকেই বলা হয় মমি। আপনার মাঝে প্রশ্ন জাগতে পারে,প্রাচীণলোকগুলো মমি তৈরীর কৌশল কীভাবে শিখেছিলো?এবং পিরামিড তৈরীর অভিজ্ঞতা-ই-বা কোথায় পেলো?
অনেকেই মনে করে যে,ভিনগ্রহের প্রাণীরা একবার পৃথিবীতে এসেছিলো এবং তাদের আগমন হয়েছিলো মিশরে!
মিশরের মানুষ তাদের কাছ থেকেই পিরামিড এবং মমি বানানোর কৌশল শিখে নেয়!
তবে এটি কোনোযৌক্তিক উত্তর নয়,হয়ত আপনি আমার সাথে একমত।
প্রায় পাঁচহাজার বছর আগেই মিশরের পিরামিড বানানোহয়। এগুলো প্রথম বানানো হয় ফেরাউ বা রাজাদের সমাধি/মন্দির হিসেবে।
তৃতীয় রাজবংশের প্রথম ফেরাউ জোসেফের জন্য সর্বপ্রথম পিরামিড নির্মান করা হয়।
মিশরীয়রা মনে করতো তাদের রাজাদের দেহ যতদিন রক্ষা করা যাবে ততদিন তারা স্বর্গে বসবাস করবে।পরবর্তীতে প্রাচীনকালের মিশরীয়রা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে লাগলো
মৃত্যুর পরও তাদের আত্মা বেঁচে থাকে। কাজেই পরবর্তী জীবনে যাতে তাদের কোনো সমস্যা না হয় এবং জীবনটাকে যেনো তারা আরো উপভোগ করতে পারে সেই চিন্তায় মিশরীয়রা অস্থির হয়ে থাকতো।
কবরে সমাধিত ব্যক্তিটি কত বিপুল পরিমাণ বিত্ত আর ক্ষমতাবান ছিলো সেই গুরুত্বের উপর নির্ভর করে মমি ও পিরামিড তৈরীর উৎসব করা হতো। আত্মা বেঁচে থাকার জন্য চাই প্রয়োজনীয় নানান জিনিস। তাই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিশেষ করে খাবার দাবার মৃতদেহের সাথে দেয়া হতো!
ফেরাউদের মৃতদেহের সাথে কবরস্থ করা হতো বিপুল পরিমাণ ধনসম্পদ। সমাজে বিত্তশালীদের কবরেও মূল্যবান সামগ্রী দেওয়া হতো। এমনকি নিম্নশ্রেণি মানুষদের কবরেও সামান্য পরিমাণ হলেও কিছু খাবার দেয়া হতো।

google map এর ভিতর আপনার ভাড়ি অ্যাড করুন 

বিশ্বের অনেক পিরামিড নিয়ে খনন কাজ ও গবেশনা করা জার্মানির পন্ততাত্তিক বীর “এরিনসন বনহোনি” (নামটা সঠিক মনে পড়ছেনা) বলেন,ফারাউ রাজাদের হাজার হাজার যুদ্ধবন্দি চারপাশ থেকে বেলেমাটি সংগ্রহ করে উঁচু করত,পরে বড় বড় পাথরের খন্ড উপরে উঠে পিরামিড তৈরী করেছিলো।
শেষে পিরামিডের চারপাশ থেকে এই বেলেমাটি কেটে সরিয়ে ফেলা হয়। আর এভাবেই ঐ পিরামিডগুলো তৈরী হয়েছিলো বলে সর্বাপেক্ষা গ্রহণযোগ্য মত দিয়েছিলেন বিশেষজ্ঞরা। মিশরের পন্ততাত্তিক বীরের দাবি নীলনদ দিয়ে ঐ বিশাল আকারের পাথর বহন করে নিয়ে আসতে কাজ করেছিলো হাজার হাজার প্রশিক্ষন শ্রমিক,যা দিয়ে তৈরী করা হয়েছিলো পিরামিড।
তারা আরো বলেন,পিরামিডের পাথর পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত কিছু নৌকা এবং তাতে ব্যবহৃত কিছু দড়ির সন্ধানও তারা পেয়েছেন। সেগুলোর অবস্থা এখনও অনেক ভালো!

আপনার মূল্যবান বক্তব্যটি কমেন্ট করবেন ধন্যবাদ

আহমেদ আবির।

Leave a Reply